আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০১৫ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলন

By on November 5, 2015
BMP Legal Aid -1

নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ মাস (নভেম্বর, ২০১৫), আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ১৫ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ১ নভেম্বর ২০১৫ তারিখ দুপুর ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জ্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম।
সাংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের সিনিয়ার আইনজীবী অ্যাড. দীপ্তি রানী সিকদার। সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয় সরকার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ নারী ও মানবাধিকার সংগঠন একক এবং সম্মিলিত উদ্যোগের পরও বর্তমানে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। পরিবারে, সমাজে নিরাপত্তাহীনতা নারীর স্বাভাবিক জীবন-যাপন এবং কন্যাশিশুর বেড়ে উঠার পথে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এবছর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ব্যাপক জনমত গঠন ও সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নভেম্বর ২০১৫ মাসকে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ মাস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবার ও সমাজ হোক নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধের দুর্গ এই আহ্বান জানিয়ে নারী ও কন্যাশিশুর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বিরোধী সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে নির্যাতন প্রতিরোধ মাস, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) এবং বিশ্ব মানবাধিকার দিবস বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মধ্য দিয়ে কেন্দ্রসহ ৬৩ টি জেলা সাংগঠনিক জেলা শাখা ও ২৩৭৬ টি তৃণমূল শাখায় একযোগে (১ নভেম্বর-১০ডিসেম্বর) পালন করছে এই সংগঠন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করে আসছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ধারাবাহিকভাবে বিভিন্নমূখী কর্মসূচির মাধ্যমে সারাবছরব্যাপী এবং গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত পক্ষকালব্যাপী নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করছে। তিনি বলেন নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা যে ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তা দেখে মনে হয় সমাজ একটি বিবকেহীন, পাশবিক বৈকালঙ্গের দিকে এগুচ্ছে। তিনি বলেন এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের সকলকে সমাজের বিবেক জাগ্রত করতে হবে, পরিবারের বিবেক জাগ্রত করতে হবে। কারণ গত তিন দশকে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে অনেক আইন হয়েছে।

BMP Legal Aid -1
কিন্তু আইনের শাসন ও বিবেক জাগ্রত না হওয়ার কারনে আমাদের দেশে সহিসংতার মাত্রা ও রূপ ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই ধরনের নির্যাতনগুলো ভয়াবহ মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ার আরেকটি কারণ হলো অনেকক্ষেত্রে প্রশাসন যথাযথ ভূমিকা পালন করে না। সবশেষে নারী ও কন্যা শিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধে তিনি পরিবার থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রের সকলের ভূমিকা তথা বিবেক জাগ্রত করার আহ্বান জানান। আর এক্ষেত্রে গণমাধ্যম এবং নারী আন্দোলন পারস্পরিক সম্পূরক শক্তি হিসেবে কাজ করলে সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা অনেকটাই কমে যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সহিংসতার বিষয়গুলো যেমন জরুরী তেমনি কিভাবে তা প্রতিরোধ করা যায় সে বিষয়ে এগিয়ে আসা সকলের জন্য জরুরী বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি সকলকে একযোগে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের অন্যতম সহ-সভাপতি নাহার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ এবং সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবির, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রিনা আহমদ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি মাহাতাবুন্নেসা, সাধারণ সম্পাদক রেহানা ইউনুস, আন্দোলন সম্পাদক লায়লা খালেদা, লিগ্যাল এইড সম্পাদক শামীমা আফরোজ আইরিন, সংগঠনের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. রামলাল রাহা এবং অ্যাড. দীপ্তি রানী সিকদারসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন ডিরেক্টর অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাড. মাকছুদা আখতার ।

BMP Legal Aid 2

About mparishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>