নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ সিডও এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ বাস্তাবায়ন বিষয়ে আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভা

By on November 17, 2015
BMP Legal Aid 3

১০ নভেম্বর ২০১৫ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ মাস (নভেম্বর, ২০১৫), আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষ্যে বিকাল ৩:০০ মিনিটে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে “স্বাধীন, স্বচ্ছ ও নারীবান্ধব আইনাঙ্গন চাই” এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ সিডও এবং পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ বাস্তাবায়ন বিষয়ে আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম।
মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমগির কবির রাজ অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট। সাব্বির মাহমুদ চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী জজ, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার, জজ কোর্ট, ঢাকা। খোন্দকার আব্দুল মান্নান, অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট পাবলিক প্রসিকিউটর, জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা। অ্যাড. কাজী মো: নজিবুল্লাহ হিরু, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও প্রাক্তন সভাপতি, ঢাকা আইনজীবী সমিতি, ঢাকা। এস এম কুদ্দুস জামান, মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ, ঢাকা। নিত্যানন্দ সরকার, যুগ্ম জেলা জজ, ঢাকা।

BMP Legal Aid 1
জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত রাষ্ট্রীয়ভাবে অনুমোদিত নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ সিডও (ঈঊউঅড) বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। তিনি বলেন, নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক সিডও সনদ একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক যা ১৯৭৯ সালে জাতিসংঘের সাধারন পরিষদ গ্রহণ করে। এর উদ্দেশ্য ছিল সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশে নারী যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, সেই ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতিদান, সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা স্থাপন নিশ্চিতকরণ এবং মানুষ হিসেবে নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি। সিডও সনদ যে তিনটি মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত সেই নীতিগুলো হলো- (১) সমতার নীতি, (২) বৈষম্যহীনতার নীতি এবং (৩) রাষ্ট্রের দায়িত্ব বা জবাবদিহিতার নীতি যা সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রেরই নীতি। বাংলাদেশ ১৯৮৪ সালে সিডও সনদের কয়েকটি অনুচ্ছেদ সংরক্ষণসহ সিডও সনদ অনুমোদন, পরবর্তী সময়ে কয়েকটি অনুচ্ছেদ থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে অনুচ্ছেদসমূহ অনুমোদন করলেও সিডও সনদের অনুচ্ছেদ ২ এবং ১৬(১)(গ) অনুচ্ছেদ থেকে এখনও সংরক্ষণ প্রত্যাহার না করায় ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত এই ৩০ বছর ধরে প্রকৃতপক্ষে সিডও সনদে বর্ণিত মানবাধিকার বাংলাদেশের নারীর জীবনে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। এর ফলে পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে অসম অবস্থান থেকেই যাচ্ছে। তিনি বলেন এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সিডও এর ২ নং অনুচ্ছেদ ও ১৬(১) (গ) অনুচ্ছেদের সংরক্ষণ তুলে নিয়ে অভিন্ন পারিবারিক আইন/ ইউনিফর্ম ফ্যামিলি কোড চালুর জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে এবং এক্ষেত্রে তিনি সকলেকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার আহ্বান জানান।

BMP Legal Aid 2
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বক্তারা বলেন, এই আইনটি সম্পকে ধারনা না থাকার কারণে এই আইনে মামলা করা যায় না। এই আইন ভঙ্গ করলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনজীবীদের সাথে এই আইনটি নিয়ে আলোচনা করার উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা যেন এই আইনের অধীনে মামলা করেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই আইনকে গুরুত্ব কম দেয়, সেদিকেও আমাদের দৃষ্টি দিতে হবে। কাজেই নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা দূর করার লক্ষ্যে এই আইনকে কাজে লাগানোর জন্য আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ লিগ্যাল এইড ইউনিট পরিচালক অ্যাড.মাকছুদা আখতার। তিনি বলেন, পরিবার মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল অথচ এখানেই নারী ও কন্যাশিশু সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়ে থাকে। পরিবারের অভ্যন্তরে নির্যতিত নারী ও কন্যাশিশুকে সুরক্ষার জন্যই এই আইন। এই আইন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দীর্ঘ দিনের আন্দোলনের ফসল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাখী দাশ পুরকায়স্থ, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ঢাকা মহানগর কমিটির সভাপতি মাহাতাবুন্নেছা। মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আইনজীবী অ্যাড. দীপ্তি রানী সিকদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ সদস্য অ্যাড. হালিমা আক্তার।

About Bangladesh Mahila Parishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>