“নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসূচী”বিষয়ে মত বিনিময় সভা

By on September 16, 2015
BMP Rokeya Sadan 1

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পরিচালিত পুনর্বাসন কেন্দ্র রোকেয়া সদন উপ-পরিষদ এবং কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ৬ আগষ্ট ২০১৫ বৃহস্পতিবার বিকাল ৩:৩০ মিনিটে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সুফিয়া কামাল ভবন মিলনায়তনে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ কর্মসুচী বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। সূচনা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। সভায় নারী আন্দোলন ও মহিলা পরিষদের বহুমাত্রিক প্রতিরোধ কাজ ও রোকেয়া সদন  বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অন্যতম সহ-সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইন বিষয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের ডিরেক্টর অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাড. মাকছুদা আক্তার, সহিংসতায় শিকার নারী ও কন্যাশিশুর সহায়তা বিষয়ে আলোচনা করেন রোকেয়া সদন উপ-পরিষদের সদস্য ডা. মাসুদা বেগম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের রোকেয়া সদন উপ-পরিষদ সম্পাদক নাসরিন মনসুর।সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু ।

সভাপতির বক্তব্যে সভাপতি আয়শা খানম বলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বহুমাত্রিক পদ্ধতিতে বহুমাত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে কাজ করে থাকে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কাজের একিট অংশ হলো এই রোকেয়া সদন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একই সাথে নির্মাণ, প্রতিরোধ, প্রতিবাদ ও সৃষ্টির কাজ করে থাকে। ১৯৮৫ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের জন্ম এবং প্রয়োজনের তাগিদেই তৈরি হয় রোকেয়া সদন উপ-পরিষদের। যেসব নারী সমাজে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার তাদের মুখে হাসি ফোটানোই নারী নির্যাতন প্রতিরোধের কাজ। তিনি বলেন তিন দশকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তার কাজ দিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক জায়গা করে নিয়েছে। এটাই মহিলা পরিষদের অর্জন। এই নতুন প্রজন্ম আবার নারী আন্দোলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে আশা করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

BMP Rokeya Sadan 2

সভায় নারী আন্দোলন ও মহিলা পরিষদের বহুমাত্রিক প্রতিরোধ কাজ ও রোকেয়া সদন  বিষয়ে আলোচনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অন্যতম সহ-সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন রোকেয়া সদন নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কাজের একটি গুরূত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মূল লক্ষ্য হলো নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা আর নারীর ক্ষমতায়নের মধ্য দিয়েই নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বহুামাত্রিক পদ্ধতিতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন নারীর প্রতি সহিংসতার মূল কারণ হচ্ছে সমাজে সৃষ্ট ক্ষমতার সম্পর্ক। যেহেতু সমাজে সব ক্ষমতা পুরুষের হাতে তাই সে মনে করে তার অধিকার আছে নারীকে নির্যাতন করার। আইনের অভাব, আইনের প্রয়োগের অভাব এবং বিচার হীনতাকে নারীর প্রতি সহিংসতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন শেল্টার হোমের প্রয়োজনিয়তা শুধুমাত্র নারীর নিরাপত্তার জন্যই নয়, নারীর মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের জন্যও শেল্টার হোম বা পূনর্বাসন কেন্দ্রের প্রয়োজন রয়েছে। সহিংসতার শিকার নারীর জন্য বিচার সহজলভ্য করা, নারীর ব্যাক্তিগত স্বত্তা ও গোপনীয়তা রক্ষা করে তাকে সমাজের মূল  ¯্রােতধারায় ফিরিয়ে দেয়ার জন্যই এই রোকেয়া সদন কাজ করে থাকে।

BMP Rokeya Sadan 3

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বহুমাত্রিক কাজের অন্যতম কাজ রোকেয়া সদন পরিচালনা। নারী ও কন্যাশিুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের লক্ষে সৃষ্টি মহিলা পরিষদ নির্যাতনের শিকার নারীদের আইন সহায়তা প্রদানের কাজ করতে গিয়ে বাস্তব প্রয়োজনে নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে রোকেয়া সদন প্রতিষ্ঠা করে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এই নির্যাতনের শিকার নারীদের মূল ¯্রােতধারায় ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এইধরনের উদ্যোগে নেয়ার জন্য সরকারের কাছেও বিভিন্ন সময় দাবি জানায়। আর তারই ফলশ্রুতি হিসেবে বর্তমানে আমরা দেখি ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার ও ওয়ানন্টপ ক্রাইসিস সেন্টার। তিনি আরো বলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৭০/৮০ দশকের সময় যে কাজ করেছে সেই কাজই আমরা আজ বৈশ্বিক নারী আন্দোলনকে করতে দেখি। সমাজ থেকে নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূল করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

BMP Rokeya Sadan 4

সহিংসতায় শিকার নারী ও কন্যাশিশুর সহায়তা বিষয়ে আলোচনা করেন রোকেয়া সদন উপ-পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ডা. মাসুদা বেগম। তিনি বলেন যুগে যুগে নারীর প্রতি সহিংসতা চলে আসছে এবং তা চলতে থাকবে। শুধু শারিরীক নয় নারীর প্রতি মানসিক সহিংসতা একটি বড় সহিংসতা। নারীর যে কোন স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করাই নারীর স্বাধীনতা খর্ব করা বলে মন্তব্য করেন তিনি। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে রাষ্ট্রকে রুখে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রের একটি বড় সমস্যা হলো যে প্রতিবাদের ডাক দেয় কিন্তু প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা করে না। তাই রোকেয়া সদনের মতো সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য এরকম আরো আশ্রয়কেন্দ্র নির্মানের প্রয়োজন আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

BMP Rokeya Sadan 5

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে আইন বিষয়ে আলোচনা করেন কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের ডিরেক্টর অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাড. মাকছুদা আক্তার। আলোচনায় তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ এবং রোকেয়া সদন উপ-পরিষদের কাজের ধারা তুলে ধরেন।

সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাখী দাশ পুরকায়স্থ ও সীমা মোসলেম, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান, আন্দোলন সম্পাদক কাজী সুফিয়া আখ্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, অর্থ সম্পাদক দিল আফরোজ বেগম, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও পাঠাগার সম্পাদক রীনা আহমদ, প্রচার ও গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়রা মনু, প্রকাশনা সম্পাদক সারাবান তহুরা কেন্দ্রীয় কমিটির নেত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 

BMP Rokeya Sadan 6

About mparishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>