নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তরুণ-তরুণীদের প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ  কর্মশালার

By on March 16, 2016
BMP Legal Aid 1

১৪.০৩.২০১৬ তারিখ বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের উদ্যোগে সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তরুণ-তরুণীদের প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অন্যতম সহ-সভাপতি নাহার আহমেদ। আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম, গণমাধ্যম সম্পাদক দিল মনোয়ারা মনু, আন্দোলন সম্পাদক কাজী সুফিয়া আখ্তার, সংগঠন সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক বুলা উসমান, রোকেয়া সদন সম্পাদক নাসরিন মনসুর, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবির, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়ন্তী রায়, আফিয়া আক্তার, রেহান ইউনুস, লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ সদস্য রেবা নার্গিস, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি মাহতাবুন নেসা, সংগঠন সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগর, আন্দোলন সম্পাদক লাইলা খালেদাসহ সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. দীপ্তি সিকদার, অ্যাড. রাম লাল রাহা, জুনিয়র আইনজীবী অ্যাড. ফাতেমা খাতুনসহ প্রশিক্ষণে তরুণ-তরুণীরা  অংশগ্রহণ করেন।

স্বাগত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড সম্পাদক সাহানা কবির বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ৮০ এর দশক থেকে নারীদের জন্য নিরলস কাজ করে আসছে। এছাড়াও স্বল্প পরিসরে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তরুণ-তরুণীদের প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে থাকে এবং একাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য প্যারলিগ্যাল প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। আমরা আশা করি প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত তরুণ-তরুণীরা নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা পালন করবে এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধের কাজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

BMP Legal Aid  2

সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, শত বছর ধরে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে যে শ্লোগান, বেইজিং এ একটি চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলন হয় এবং একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণে নারীদের মূখ্য ভূমিকা ছিল। নারীর অধিকার মানবাধিকার হিসেবেই সমানভাবে গণ্য হওয়া উচিত। নারীর প্রতি সহিংসতা হিসেবে যেকোন ধরণের অপ্রত্যাশিত আচরণ নারীর প্রতি সহিংসতা। জাতীয় ভিত্তিতে নারী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা ও সমালোচনা করা হচ্ছে। তথাপিও এর পরিপ্রেক্ষিতে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা কোনভাবেই কমছে না উপরন্তু দিন দিন এর পরিসংখ্যানের হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৮০ এর দশক থেকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে কাজ করে আসছে। আজকে তরুণ-তরুণীদের নিয়ে যে প্রশিক্ষণ, যে আন্দোলন, প্রিভেন্ট, প্রোটেক্ট, কেয়ার সক্রিয়ভাবে আপনারা অংশ্রগহণ করবেন। নারীর মানবাধিকার রক্ষার জন্য কাজ করতে হবে। শুধু নারী হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে কাজ করতে হবে। আইন বাস্তবায়নের জন্য আমরা সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছি। প্রত্যোকটি আইনের পেছনে দর্শণ আছে। সব আইন সম্পর্কে জানতে হবে। আজকের যে পৃথিবী তা অনেক দূর পর্যন্ত অগ্রসর হচ্ছে।

BMP Legal Aid 3

সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম বলেন, আমাদের দেশে যে প্রচলিত নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন হচ্ছে তা আমরা কিভাবে বন্ধ করবো। বিশেষ করে আমাদের দেশে যে প্রতিনিয়ত নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন হচ্ছে তা মূলত পরিবার থেকেই সূত্রপাত হচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এই সংগঠন এর জন্মলগ্ন থেকেই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অজাকের যে প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে তা আপনারা সক্রিয়ভাবে সমাজের অন্যদের কাছে তুলে ধরবেন। কি কি ভাবে আমরা আন্দোলন করি নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আমরা কন্যাশিশু ও নারীকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারবো।

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. আফিয়া আক্তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, আমরা তরুণ সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছি। পারিবারিক আইন, পারিবারিক আদালত এগুলো সম্পার্কে নির্দিষ্টভাবে জানতে হবে। পরিবারিক আইন হচ্ছে বিয়ে সংক্রান্ত, দেনমোহর, বিয়ে-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ এর সমষ্টি নিয়ে। বাংলাদেশের সংবিধানে বলা হয়েছে সকল মানুষ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে একেক ধর্মে নারীদের অধিকার একেক রকম। বিয়ের ক্ষেত্রে মুসলিম আইনে নারীদের কিছু শর্ত আছে। বয়স, সম্পত্তি, দেনমোহর, হিন্দু আইনে নারীদের কিছু শর্ত আছে এবং খ্রিস্টান পারিবারিক আইনেও কিছু শর্ত রয়েছে এবং বয়সের ক্ষেত্রে নারী ১৮ বছর এবং পুরুষদের ২১ বছর নির্ধারিত করা রয়েছে। বিয়ে যদি চুক্তি হয় চুক্তি সম্পাদন করতে ন্যূনতম ১৮ বছর অবশ্যই দরকার। চুক্তি আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোন ধরণের চুক্তি সম্পাদন হতে পারে না। মা সন্তানের হেফাজতকারী অভিভাবক এবং বাবাও অভিভাবক। মুসলিম আইন ছাড়া নারীদের দেনমোহরের যে কথা আছে আর অন্যকোন আইনে এ ধরণের কোন বিষয় সুনির্দিষ্ট কোন মতামত নেই। ভরণপোষণ দিতে সকল বিবাহীত পুরুষ এই মুসলিম আইন অনুযায়ী বাধ্য। এটা সব আইনে উল্লেখ আছে। সকল আইনে বৈষম্য দেখা যায়। মুসলিম আইনে নারীদের দত্তক নেওয়ার কোন ক্ষমতা নেই। কিন্তু অন্য আইনে এর বিধার আছে। নারী অধস্তন যার পরিপ্রেক্ষিতে নারীর ভরণপোষণ ও দেনমোহর দেয়া হয়।  বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অন্যতম উপ-পরিষদ লিগ্যাল এইড এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম “সালিশ’’এর মাধ্যমে দেখা যায় যে, স্ত্রী সংসারে খরচ দিচ্ছে। নতুন একটি আইন হয়ে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ এই আইনে পিতা-মাতাকে সন্তানেরা কিভাবে ভরণপোষণ দিবে সে সম্পর্কে বলা হয়েছে। এছাড়াও এই আইনে ৭ টি বিষয় বলা হয়েছে। যদি সন্তানেরা ভরণপোষন না দেয় তাহলে পিতা-মাতা আদালতে যেতে পারবে। আমরা বাল্য বিবাহ নিয়ে অনেক কথা বার্তা বলে থাকি। বাল্যবিবাহ বলতে যে কোন এক পক্ষ ১৮ এর নিচে এবং ২১ এর নিচে হয় তাহলে সেটি বাল্যবিবাহ বলে গণ্য হবে। বাল্যবিবাহে আমাদের করণীয় থানাকে অবহিত করা। যৌতুক হচ্ছে প্রত্যেক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেয়। কণেপক্ষ বা বরপক্ষ যে কোন একপক্ষ থেকে যদি দাবি করা হয় সেটিই হচ্ছে যৌতুক। ১৯৮০ সালে যে যৌতুক আইন সেখানে বলা আছে যে, যে পক্ষ যৌতুক দিবে এবং যে পক্ষ যৌতুক নিবে উভয় পক্ষই শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে বলে গণ্য হবে। ইউরোপে যৌতুকের প্রচলন ছিল সর্বপ্রথম।

BMP Legal Aid 4

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. রাম লাল রাহা তার বক্তব্যের শুরুতেই উপস্থিত সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী, ২০০৩) এটি একটি বিশেষ আইন। এই আইন শধুমাত্র নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতিকার পাবার জন্য তৈরি করা হচ্ছে। পাঁচ ধরণের বিশেষ অপরাধ এই আইনের আওতাভূক্ত। এই আইনে কার্যক্রম এর জন্য পৃথক আদালত রয়েছে। আলোচ্য আইনের ধারা-৯ ধর্ষণ সম্পর্কে, ধারা-১০ এ যৌন নিপীড়ন সম্পর্কে বলা হয়েছে। আমাদের দেশের আইনগুলো প্রয়োজনের কারণে প্রণয়ন করা হয়। যেমন: এসিড অপরাধ দমন আইন, ২০১২; মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ যাহা একটি সামগ্রিক আইন এবং নারী ও পুরুষ সবার জন্য প্রযোজ্য। এরপর তিনি মানব পাচারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং বলেন মানব পাচার বলতে আমরা সাধারণত বুঝি দেশের বাইকে কাউকে জোরপূর্বক অথবা স্বেচ্ছায় পাঠিয়ে দেয়া কিন্তু মানব পাচার দেশের ভেতরেও হতে পারে। সংশ্লিষ্ট আইনে মানব পাচারের অপরাধ ঘটলে যথাযোগ্য শাস্তি এবং ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণের কথা বলা আছে। সচেতন নাগরিক হিসেবে তিনি নারী নির্যাতন রোধে উপস্থিত সকলকে পুলিশের সাহায্য নেয়া, মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে মামলার সার্বক্ষণিক তদারকি করা, স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে আন্দোলন গড়ে তোলাসহ সচেতন হতে বলেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. দীপ্তি রানী সিকদার বলেন, তরুণ-তরুণীদের আমরা বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে যে প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি তার অন্যতম প্রত্যাশা হলো সকলকে সচেতন করা। এরপর তিনি পর্ণগ্রাফি আইন, ২০১২ সম্পর্কে সাম্যক ধারণা দেন। তিনি বলেন, এই আইনের জন্য আলাদা আদালত রয়েছে। যৌন নিপীড়ন বা উত্ত্যক্তকরণের জন্য কোন বয়স নেই। পরিবারের সদস্যদের দ্বারাও যৌন নিপীড়নের শিকার হতে পারে। আমাদের দেশের সর্বোচ্চ আইন বাংলাদেশ সংবিধান। পরিবেশ ব্যুরোর মাধ্যমে দেখা গেছে যে, ৮০ শতাংশ নারী যৌন নিপীড়নের শিকার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দাবি করে আসছে এবং সরকারের সাথে সার্বক্ষণিক অ্যাডভোকেসি এবং লবি বজায় রাখছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। যে কোন বয়সের নারী আজকের সমাজে যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। সুতরাং যৌন নিপীড়ন বন্ধে আমাদের সকলকে সচেতন ও সোচ্চারসহ মহামান্য হাইকোর্টের যে উত্ত্যক্তকরণ ও ফতোয়া বন্ধ করার জন্য ২০১১ সালে রুল প্রদান করা হয়েছে তা প্রণয়নে এগিয়ে আসতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের জুনিয়র আইনজীবী অ্যাড. ফাতেমা খাতুন তার বক্তব্যের শুরুতেই সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তার দীর্ঘ চাকুরী জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের সকল কার্যক্রম বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৯৮৫ সাল অর্থাৎ বেইজিং এর প্লাটফরম এর আদলে চিন্তা করে নারীর অধিকার সুনিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন করেন তার পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে তেজগাঁও থানা, ঢাকায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তিনি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এর কার্যক্রম সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন।

সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম তার মূল্যবান বক্তব্যে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আন্দোলন ও তরুণ সমাজের ভূমিকা ও তরুণ সমাজের চেতনাগত আত্মমর্যাদা উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতা তৈরি আমাদের আজকের এই প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ কর্মশালার অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। এরপর তিনি আইন ও আইন প্রয়োগের জায়গায় চেতনাগত উন্নয়ন আত্মস্থকরণ ও করণীয় বিষয় সম্পর্কে সহযোগীতা, নিজের আত্মশুদ্ধি অর্জন এবং অন্যকে আইনের আশ্রয় গ্রহণের জন্য করণীয় পদক্ষেপ গুলো জানা ও জানানোর জন্য আজ আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। মানবাধিকার রক্ষার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভিজিট রিভিজিট। এরপর তিনি ইউনিফরম ফ্যামিলি কোড বিষয়ে সাম্যক ধারণা দেন এবং বলেন বাংলাদেশের সকল নাগরিক নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ-জাতি এবং লিঙ্গ ভেদে সকলের জন্য একই বিধান ও আইন। আমাদের এই সংগঠন ১৯৯৫ সাল থেকে ইউনিফরম ফ্যামিলি কোডের বাস্তবায়ন বিষয়ে প্রানান্তর ও নিরলস চেষ্টা করছি। ইউনিফরম ফ্যামিলি কোড এ বলা আছে যে যার ধর্মমতে বিয়ে সম্পাদন হবে কিন্তু প্রত্যোককেই রেজিস্টার্ড আইনের বিধান অনুযায়ি “রেজিস্টার্ড বিবাহ” সম্পন্ন করতে হবে। এরপর তিনি বলেন বাবার অনুপস্থিতিতে মা সন্তানের অভিভাবক হিসেবে লালন পালন ও দায়িত্ব নিতে পারেন। এ বিষয়ে আমাদের দেশে আইনে পরিস্কার এবং বৈষম্য বিহীন দিক নির্দেশনা নেই। আমরা এ বিষয়েও দীর্ঘ সময়ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এরপর তিনি তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রশ্নের উত্তরে মানহানি মামলা কিভাবে হবে এবং শর্ত সাপেক্ষে এটি ফৌজদারী কার্যবিধি বিষয়ে ধারণা প্রদান করে।

প্রশিক্ষণ কর্মশালার সভাপতি নাহার আহমেদ আলোচ্য প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ পর্যায়ে তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, নারী ও কন্যাশিশুদের নিজের পায়ে দাড়াতে হবে এবং আরো বেশি সমাজের সকল ক্ষেত্রে বেশি বেশি সক্রিয় অংশগ্রহণে ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়াও মাতা ও পিতা যারা আমাদের এই পৃথিবীতের আলোর মুখ দেখিয়েছেন তাদের যেন কোন ধরণের অবহেলা না হয় এবং তাদের ভরণপোষণ বিষয়ে আমাদের সকলকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সচেতনতা বাড়াতে হবে।

প্রশিক্ষণের হাউজরুল প্রনয়ণ ও প্রত্যাশা চয়ন করেন কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের জুনিয়র অফিসার রাখী রাণী ম-ল। প্রশিক্ষণ চলাকালীন সময়ে প্রশিক্ষণার্থীরা যেসব নিয়ম মেনে চলবেন সেই বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীরা নিম্নলিখিত হাউজরুল প্রদান করেন।

১. মোবাইল ফোন বন্ধ রাখতে হবে।

২. প্রশিক্ষণটি অংশগ্রহনমূলক  ও স্বতস্ফূর্ত হতে হবে।

৩. মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে।

৪. পাশাপাশি কথা বলা যাবেনা।

৫.আলোচ্য বিষয়গুলো আত্মস্থ করার চেষ্টা করতে হবে।

৬. সবাই একসাথে প্রশ্ন না করে একে একে করতে  হবে।

৭. আলোচনা না বুঝতে পারলে পুনরায় জিজ্ঞেস করতে হবে।

৮. অন্যকে প্রশ্নকরার সুযোগ দিতে হবে।

৯.প্রশিক্ষণ চলাকালিন সময়ে বারে বারে বাইরে যাওয়া যাবেনা।

প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণে নিম্নলিখিত প্রত্যাশা উপস্থাপন করেন।

প্রত্যাশাসমূহ:

১.            সিডও সনদ বিষয়টি কি।

২.            পর্নগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২; শাস্তিগুলির ধরণ বিষয়ে জানতে চাই

৩.           আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ উন্নত হলেও নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের নতুনভাবে কি কি আধুনিক প্রতিরোধ ও পদক্ষেপ তুলে ধরা যেতে পারে।

৪.            সামাজিক নির্যাতন কিভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

৫.            নারী সম্পত্তিতে মালিকানা অর্জনের ক্ষেত্রে বাধা বিষয়ে আইনের নির্দেশনাগুলি কি।

৬.           হিন্দু বিবাহ আইন বাস্তবায়নে বর্তমান সময়ে হিন্দু মহিলা জোট কেন বিরোধিতা করছে।

৭.            পারিবারিক সহিংসতার ক্ষেত্রে শারীরিক সাক্ষ্য প্রমান যদি না থাকে তাহলে মানসিক নির্যাতকে আমরা কিভাবে আইনের আওতায় আনতে পারি।

৮.           সাইবার ক্রাইম বন্ধে আইনগুলো ঠিকমত কার্যকরী হচ্ছে না কেন?

৯.            সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে তৎক্ষণাত সে পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে কি কি করণীয়।

১০.         বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কোন কোন বিষয়ে নারীদের সহযোগীতা দিয়ে থাকেন।

১১.         আমরা সাধারণ জনগন আইনের আশ্রয় নিতে একধরণের ভীত হই এবং এর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কিভাবে দুর করতে পারি।

১২.          শিশুদের উপর যে নতুন মাত্রায় নির্যাতন শুরু হয়েছে তা বন্ধে আমাদের করণীয় কি এবং এ বিষয়ে আমাদের ভূমিকা কি  আরও বেশি হওয়া উচিত নয়।

১৩.        নারী ও কন্যাশিুশু নির্যাতন প্রতিরোধ করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আমরা সরকারের ও আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের মাধ্যমে বাধাপ্রাপ্ত হই এক্ষেত্রে পরিত্রানে কি করতে পারি।

About mparishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>