নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নারীবান্ধব পুলিশ প্রশাসন চাই বিষয়ে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ

By on October 19, 2015
BMP Legal Aid 1

পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ বাস্তবায়ন বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের প্রতিনিধিদের সাথে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, সম্মেলন কক্ষ, তেজগাঁও, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমীন। উক্ত প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোচনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ডিরেক্টর লিগ্যাল অ্যাডভোকেসি এন্ড লবি অ্যাড. মাকছুদা আখতার, কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ সদস্য অ্যাড. আফিয়া আক্তার, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাড. দীপ্তি রানী সিকদার ও  অ্যাড. রাম লাল রাহা। প্রশিক্ষণটি সঞ্চালনা করেন জুনিয়র আইনজীবী অ্যাড. ফাতেমা খাতুন।

সভার শুরুতেই অ্যাড. মাসুদা রেহানা বেগম উপস্থিত প্রতিনিধিদের বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ নারী আন্দোলনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি মানুষের আন্দোলনের ফলে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নারীদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বর্তমান সময়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার নারী পুলিশ দেশে ও বিদেশে শান্তি মিশনে অত্যন্ত দক্ষতা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের প্রতিনিধিরা নারী আন্দোলনের ফসল ও অংশ। এর জন্যই নারী পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব দ্বিমুখী ও গুরুত্বপূর্ণ।

BMP Legal Aid 1

এ্যাড.মাকছুদা আখতার লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের কার্যক্রম সংক্ষিপ্তভাবে অভিযোগ গ্রহণ করা, কাউন্সিলিং, সালিশ প্রক্রিয়া এবং নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের আইনগত সহায়তা প্রদান প্রয়োজনে চিকিৎসা সহায়তা ও রোকেয়া সদনে আশ্রয় প্রদানসহ বাস্তব কাজের আন্দোলনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পরবর্তীতে উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এর উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের উপ-পুলিশ কমিশনার ফরিদা ইয়াসমীন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুরা তাদের অভিযোগের কথা খোলা মনে বলতে পারেন। তাদেরকে কাউন্সিলিং করা এবং প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা তাদেরকে করা হয়। চিকিৎসা, মামলা করতে সহায়তা, প্যানেল আইনজীবীদের দিয়ে মামলা পরিচালনা প্রয়োজনে রোকেয়া সদনে আশ্রয় প্রদানসহ কোন জায়গায় নারী নির্যাতনের ঘটনা শোনার পর সাথে সাথে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের নেতৃবৃন্দ, কর্মকর্তা ছুটে যান। সেখানে নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুর সাথে বা তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা করে তথ্যানুসন্ধান করে। সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ করে নির্যাতনের ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্মারকলিপি ও চিঠি দেয়া হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নির্যাতিতা নারী ও শিশুর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করে যেতে হবে।

BMP Legal Aid 2

কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদ সদস্য অ্যাড. আফিয়া আক্তার, নির্যাতিতা নারী ও শিশুদের পাশে সকলে এক সাথে থেকে কাজ করতে হবে, সচেতনভাবে এগিয়ে আসতে হবে এবং কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে এবং কিভাবে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা যায় সেটিই মূল কথা। এ ক্ষেত্রে পুলিশ অফিসার এবং থানা পুলিশকে নারী বান্ধব হতে হবে কেননা মানুষ বিপদে পড়লে সবচেয়ে থানা পুলিশকে নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে করে। একজন নির্যাতনের শিকার নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। কারণ একজন নির্যাতনের শিকার নারীর শরীরের যে আঘাত হয় তার চেয়ে বেশি আঘাত হয় মনে। এ জন্য তাকে মানসিকভাবে সাহস জোগাতে এবং পাশে দাড়াতে হবে মানবিক বোধ নিয়ে। তিনি বলেন যে, শুধু আইন থাকলেই হবে না তার সঠিক ও যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ নারীর ক্ষমতায়নের জন্য সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও পর্যায়ে নারীদের নিয়োগ এর দাবি জানিয়ে আসছে আমরা আরো দক্ষ কর্ম উদীপ্ত নারী পুলিশ চাই। যারা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গী থেকে দায়িত্ব পালন করবে।

BMP Legal Aid 3

এ্যাড. মাকছুদা আখতার বলেন, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ একটি সামাজিক সংগঠন এবং নারীর মানবিক অধিকার আদায়ের জন্য কাজ নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, নারী পুলিশ কাজ করতে যে সব প্রতিবন্ধকতা আছে তা দুর করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে সুপারিশ করবো। পুলিশ রিফর্মের মূল বিষয় হচ্ছে পুলিশ সদস্যদের সাইকোলজিক্যাল এবং লজিস্টিক রিফর্ম। যৌথভাবে এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং সফল করা যায় সেই সাথে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের পাশে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে এবং ঘটনা অনুযায়ী সঠিক ধারায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং প্রয়োজনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিনিধি ও পুলিশ এক সাথে তদন্তে যেতে পারে তবে যে যায় মত তদন্ত কাজ করবে ও রিপোর্ট করবে। ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারের তদন্ত টিমের সদস্যরা নব উদ্যোগে ও উদ্যোমে কাজ করবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

BMP Legal Aid 4

DSCBMP Legal Aid 5

 

About mparishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>