নারী স্বাস্থ্য অধিকার ও জাতীয় বাজেট

By on April 6, 2016
BMP Health 1

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য উপ-পরিাষদের উদ্যোগে ২৪ মার্চ ২০১৬ দুপুর ১২:০০ মিনিটে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আনোয়রা বেগম-মুনিরা খান মিলনায়তনে “নারী স্বাস্থ্য অধিকার ও জাতীয় বাজেট” বিষয়ক চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আয়শা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা: মাহমুদ হাসান। মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি ডা: মাখদুমা নার্গিস, ওজিএসবির সভাপতি এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সহ-সভাপতি ডা: রওশন আরা বেগম, সাধারণ সম্পাদক ডা: মালেকা বানু, ডা: দীপা ইসলাম, ওজিএসবি প্রাক্তন সভাপতি ডা: লতিফা শামসুদ্দিন, অধ্যাপক ডা: লায়লা আরজুমান্দ বানু, প্রফেসর ডা: রহিমা বেগম, অধ্যাপক ডা: রাতু রুমানা বিন্তে রহমান, প্রফেসর ডা: সালমা রউফ, প্রফেসর ডা: জিন্নাত আরা নাসরীন, প্রফেসর ডা: মালিহা রশিদ, প্রফেসর ডা: কিশোয়ার সুলতানা, ডা: ফারজানা ইসলাম, ডা: হোসনে আরা খাতুন, ডা: শেফালি বাহার, ডা: শামীম আফরোজ আলভী, ডা: ফ্লোরিডা রহমান, ডা: শারমিন জাহান, ডা: শায়লা ইমাম কান্তা, ডা: মাহমুদা বেগম এবং ডা: সাফেয়া খানম। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সম্পাদক নূরুল ওয়ারা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি সম্পাদক বুলা ওসমান, আন্দোলন সম্পাদক কাজী সুফিয়া আখ্তার, রোকেয়া সদন সম্পাদক নাসরিন মনসুর, আন্তর্জাতিক সম্পাদক রেখা সাহা, সমাজ কল্যান সম্পাদক রাবেয়া বেগম শান্তি, প্রশিক্ষণ সম্পাদক রীনা আহমেদ।

BMP Health 2

শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাখেন স্বাস্থ্য সম্পাদক নুরুল ওয়ারা বেগম। সভাপতি আয়শা খানম সূচনা বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন, মানবাধিকার এবং মৌলিক অধিকারের সাথে নারীা স্বাস্থ্য অধিকার জড়িত। তিনি বলেন নারীরর স্বাস্থ্য অধিকারকে মূল ¯্রােত ধারায় যুক্ত করার বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ কেন্দ্রসহ সারা দেশে দীর্ঘ দিন ধরে সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছে।

সহ-সভাপতি মুখদুমা নার্গিস বলেন, আন্তর্জাতিক মানদন্ডে বাংলাদেশে মাথাপিছু স্বাস্থ্য ব্যয় সর্বনি¤œ পর্যায়ে রয়েছে ২৭ ইউএস ডলার। ব্যয় ২৭ ইউএস ডলার এর মধ্যে সরকারী এবং ডোনারদের বাজেট রয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধি এবং বিভাজন হতে হবে সৃনির্দিষ্ট। নারীদের জন্য স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের বিষয়ে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে। স্বাস্থ্য ক্ষাতে বাজেট বরাদ্দের হার দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠি নারীদের জন্য ৫০% বাজেট বরাদ্দ রাখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ৮৫% সেবা গ্রহিতা নারী। সুতরাং কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মান উন্নয়ন করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা: মাহমুদ হাসান বলেন, শুধুমাত্র একটা নির্দিষ্ট শ্রেণী সুবিধা পাচ্ছে অন্যশ্রেণী সুবিধা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে দিন দিন বরাদ্দ কমছে অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। সাধারণত স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দের একটা বড় অংশ ব্যায় হয় বেতন ভাতা, যন্ত্রপাতি ও ঔষধপত্র কিনতে আর বাকীটা ব্যায় হয় স্বাস্থ্য সেবায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে জিডিপি’র ৫% বরাদ্দ করা হলে একটি মাঝারি মানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালানো সম্ভব। বাংলাদেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাতের তুলনায় এটা অবাস্তবায়নযোগ্য মনে হলেও উদ্বেগের বিষয় হলো ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দ কমছে, যা বরাদ্দের অপ্রতুলতাকে নির্দেশ করছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে মাথাপিছু কমপক্ষে ৪২ ডলার খরচ করতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণে ৪২% মেডিকেল যন্ত্রপাতিই বাক্সবন্দি। এর সাথে সাথে রয়েছে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন পর্যায়ের দূর্ণীতি। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের দিক থেকে নারীরা সবার পেছনে পড়ে আছে। ৫০% মেয়েরা ১৬-১৯ বছরের মধ্যে মা হয়ে যায় এবং ৮৭% নারী জীবনের কোন না কোন সময়ে সহিংসতার শিকার হয়ে থাকে। মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে হলে চিকিৎসা খাতে বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সরকারকে আরও অনেক বেশী ব্যায় করতে হবে তিনি মন্তব্য করেন।

BMP Health 3
মুক্ত আলোচনায় আলোচক চিকিৎসকবৃন্দ বলেন, আমাদের দেশে একটি কন্যাশিশু জন্মের পর হতে বিভিন্ন ধরণের বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকে। এ বিষয়ে ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্টিং মিডিয়ার অধিক পরিমানে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালনো প্রয়োজন। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে অন্যান্য সেবার সাথে কিশোরী সেবা ও মেনোপোজ বিষয়ে স্বাস্থ্য সেবার পৃথক একটি কর্ণার থাকলে তারা উপকৃত হত। বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে। আমাদের দেশের প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ৬০০০ জনকে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। যে কারণে মান সম্মত স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া সম্ভব হয়না। বিভিন্ন ধরণের রোগ প্রতিরোধের জন্য আগে থেকেই শিশু ও নারীদের ভ্যাকসিন দেওয়া প্রয়োজন বলে আলোচকবৃন্দ মন্তব্য করেন। বাল্য বিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব নারী স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করে। সুতরাং নারী স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে বাল্য বিবাহ অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এ বিষয়ে আরও অনেক কাজ করতে পারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকবৃন্দ মন্তব্য করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে ১১টি মেডিসিন ইউনিটে পুরুষদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড আছে কিন্তু নারীদের জন্য ১টি/২টি ওয়ার্ড বরাদ্দ আছে যা প্রয়েজনের তুলনায় অপ্রতুল। নারীদের জন্য আলাদা কোন আইসিইউ নেই, জেনারেল আইসিইউ নারীদের শেয়ার করতে হয়। জরুরী মুহূর্তে নারীদের স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমানে প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, যন্ত্রপাতি, লেবার রুম ইত্যাদি না থাকার ফলে চিকিৎসকদের মান সম্মত সেবা দেওয়ার কথা বলা হলেও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান রেখে কাজ করা সম্ভব হয় না বলে মন্তব্য করেন। পিরিয়ডকালীন সময়ে জরুরী অবস্থায় মেয়েদের স্কুলে স্যানিটরি ন্যাপকিন সরবরাহ করা হলে তারা উপকৃত হত। এ বিষয়ে স্কুলে আলাদাভাবে বাজেট বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা নির্যাতনের শিকার বেশীরভাগ নারীরা জানেন না, নির্যাতনের শিকার হলে কোথায় গেলে তারা সহয়তা পাবে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ যদি এ বিষয়ে একটি আলাদা সেল তৈরী করে তাহলে নির্যাতিত নারীরা খুব সহজেই বিভিন্ন ধরণের সহয়তা ও পরামর্শ পাবে তারা মতামত দেন। আলোচকবৃন্দ বলেন বলেন, প্রতিটি হাসপাতালে এনজিওদের একটি কর্ণার থাকলে নির্যাতিতরা উপকৃত হত। প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে কিশোরীদের জন্য আলাদা করে কোন বই থাকলে তাদের জন্য সুবিধা হত। তারা আরও বলেন, একজন কিশোরী বয়ো: সন্ধিকালীন সময়ে নানাভাবে নির্যাতিত হয়। স্কুলের প্রতিটি কারিকুলামে স্বাস্থ্য পরিচর্যা, পিরিয়ড, সেক্স এডুকেশন ইত্যাদি বিষয়গুলো অন্তর্ভক্ত করলে কিশোরীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। বাল্য বিয়ের হার কমানো গেলে মাতৃমৃত্যুর হার আরও কমে যাবে। এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগী ভুমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে। মাতৃকালীন ছুটি ৬ মাস সরকারীভাবে নিশ্চিত করা গেছে কিন্তুু বেসরকারীভাবে তা পালন করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে মনিটরিং করা প্রয়োজন। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় পিতৃতান্ত্রিকতা বিদ্যামান সেখানে নীতি নির্ধারনের জায়গায় বাজেট প্রনয়ণকারীরা যথেষ্ট পরিমান জেন্ডার সংবেদনশীল নয়। নারীর সমস্যা শুধুমাত্র নারীর সমস্যা নয়, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় সমস্যা হিসেবে গণ্য করা না হলে এ সমস্যার সমাধার করা সম্ভব না বলে আলোচকবৃন্দ মন্তব্য করেন।
সুপারিশসমূহ:
*  জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি করতে হবে।
* স্বাস্থ্য খাতে বাজট বৃদ্ধিসহ, সুনির্দিষ্ট বিভাজন থাকতে হবে এবং নারী স্বাস্থ্যে বরাদ্দ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
* কন্যা শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারনায় মিডিয়ার সাহায্য নিতে হবে।
* সরকারীভাবে ৬ মাস মাতৃকালীন ছুটি নিশ্চিত করা গেছে কিন্তুু বেসরকারীভাবে তা পালন করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে মনিটরিং করতে হবে।
* ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্টিং মিডিয়ার অধিক পরিমানে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।
* শুধুমাত্র স্ত্রীরোগ বিষয়ে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
* বিভিন্ন হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে অন্যান্য সেবার সাথে কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা ও মেনোপোজ বিষয়ে পৃথক একটি কর্ণার থাকতে হবে।
* কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্য সেবা বৃদ্ধি করতে হবে এবং উঠোন বৈঠকের ব্যবস্থা করতে হবে।
* নারীদের জন্য হাসপাতালে পৃথক আইসিইউ-এর ব্যবস্থা করতে হবে।
* সরকারী হাসপাতালগুলোতে নারীদের জন্য ওয়ার্ডে ও বেডের সংখ্যা অপ্রতুল। সুতরাং নারী ওয়ার্ড ও বেডের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে।
*  নারীদের জরুরী স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার সময় পর্যাপ্ত পরিমানে প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র, যন্ত্রপাতি, লেবার রুম ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ থাকতে হবে।
*  সকল স্কুলে মেয়েদের টয়লেট ফ্যাসিলিটি বাড়ানোর জন্য বাজেট প্রয়োজন।
*  স্কুলের সরকারী-বেসরকারীভাবে পিরিয়ডকালীন সময়ে জরুরী মুহূর্তে মেয়েদের জন্য স্যানিটরি ন্যাপকিন সরবরাহের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
*  স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করতে শিক্ষা কারিকুলামে স্বাস্থ্য পরিচর্যা, পিরিয়ড, সেক্স এডুকেশন ইত্যাদি বিষয়গুলো অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।
*  সরকারী-বেসরকারীভাবে কিশোরী মেয়েদের স্তন ক্যান্সাার, লিউকোরিয়া, ফিষ্টুলা প্রতিরোধে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দিবার ব্যাবস্থা করতে হবে।
*  সরকারী-বেসরকারীভাবে গর্ভবতীদের নারীদের জন্য হেলথ কার্ড এবং গর্ভকালীন ভাতার ব্যবস্থা করতে হবে।
*  উপজেলা পর্যায়ে সরকারী-বেসরকারীভাবে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের ডাক্তার, নার্সদের যাতায়াত, আবাসনসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে হবে।
*  কমিউনিটি ক্লিনিকের স্টাফদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে এবং তাদের কাজ সুষ্ঠভাবে মনিটরিং করতে হবে।
*  গ্রামীণ পর্যায়ে এন্টিনাটাল ও পোস্টনাটাল কেয়ার বিষয়ে সেবা বৃদ্ধি করতে হবে।
*  নন-কমিউনিবল ডিজিজ নিয়ে আরো কাজ করতে হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতি সুপারিশসমূহ:
*  বাল্য বিবাহ প্রতিরোধে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে আরো কাজ করতে হবে।
*  শিক্ষার সাথে স্বাস্থ্যের একটি যোগসূত্র রয়েছে তাই শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে কাজ করতে হবে।
*  প্রতিটি হাসপাতালে নির্যাতিত নারী ও শিশুদের জন্য বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের পৃথক একটি কর্নার থাকলে নির্যাতিত নারীরা উপকৃত হবে।

BMP Health 4

BMP Health 5

BMP Health 6

BMP Health 7

About mparishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>