বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪- এ মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বহাল রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

By on June 30, 2015
BMP Movement 1

সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে ২৫ মে ২০১৫ তারিখে  সকাল ১১.০০ টায়  জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স কক্ষে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪- এ মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ বহাল রাখার দাবিতে’ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় জাতীয় প্রেসক্লাব কনফারেন্স লাউঞ্জে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি জাকিয়া কে হাসান, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার, কন্যা শিশু অ্যাডভোকেসী ফোরামের নাছিমা আক্তার জলি, জাতীয় নারী জোটের আহবায়ক আফরোজা হক রীনা

আইন সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেন আমাদের দাবি একটিই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখা হোক। মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ রাখার বিষয়ে তিনি বলেন ১৯২৯ সালের আইনে যেখানে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ ছিলো সেখানে ২০১৫ সালে এসে তা ১৬ করা হলে এটা সরকারের পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত হিসেবে চিহ্নিত হবে। আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ১৬ বছরে যেখানে একটি মেয়ে স্কুলের গন্ডি পেরুতে পারে না সেখানে এই বিয়েকে আইনগতভাবে বৈধ করার মানে হচ্ছে নারীর অগ্রগতির যাত্রাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করা। এদেশের একজন নারীর পূর্ণ নাগরিক না হওয়া পর্যন্ত যে সুযোগগুলো প্রাপ্য সেগুলো যেন তারা পায়, কোনভাবে তাদের যেন পিছনের দিকে ঠেলে দেয়া না হয়। যদি সরকারের এই সিদ্ধান্তই বহাল থাকে তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।

BMP Movement 2

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নের কথা বলে অথচ সেই সরকারই মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ থেকে ১৬ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মেয়েদের জন্ম নিবন্ধন না থাকার কারনে ১৫ বছরের মেয়েদের ১৮ বছর বলে বিয়ে দেয়া হয়। ১৬ বছরে বিয়ের বয়স হলে ১২ বছরেই বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। মেয়েদের বাল্য বিবাহ বহাল থাকলে দেশ ঝুকির মুখে পড়বে। আগের আইন বহাল রাখার দাবীতে দেশে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

উইমেন ফর উইমেনের সভাপতি জাকিয়া কে হাসান বলেন, বাল্য বিবাহ রোধ করার জন্য গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে যেয়ে বোঝানো হয়েছে। আজ এই পর্যায়ে যখন আমাদের নারীদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্দোলন করার কথা তখন আবার আমাদের পিছনের দিকে চলে যেতে হচ্ছে। কর্মপরিকল্পনা কিসের ভিত্তিতে হবে? সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি আবার সোচ্চার হয়েছে। আমরা পিছিযে যাবো না, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাবো।

জাতীয় নারী জোটের আহ্বায়ক আফরোজা হক রীনা বলেন, বর্তমানে নারীরা যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে কেন এই ধরনের আইন সরকার করছে। এগিয়ে নেয়ার চ্যালেঞ্জের জোড়ালো দাবী, মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখতে হবে।

BMP Movement 3

স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভলপমেন্টের রঞ্জন কর্মকার বলেন, ১৮ বৎসরের নিচে কোন শিশুকে বিয়ে দেয়া যায় না। বাংলাদেশের উন্নয়নের সূচকগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে এদেশে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাস। প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে পাঠানোর আগে সকলের সামনে তা উন্মুক্ত করতে হবে। আইন করার আগে কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু করা যাবে না।

কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের নাসিমা আক্তার জলি বলেন, এই আইনটি বহাল রাখার জন্য কেন বার বার আন্দোলন করতে হচ্ছে। বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪ খসড়া পরিবর্তন করে সুকৌশলে একটি লাইন সংযোজন করা হয়েছে। সরকার আগামী ৫ বছরের জন্য এই আইনটি বহাল রাখার চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের ইতিহাস অনেক দীর্ঘ। এদশের নারী আন্দোলনের অনেক অর্জন রয়েছে এবং সমস্ত ক্ষেত্রে নারী তার যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকাকে সচল রেখেছে। ৪৫ বছরে সমাজে নারীর যখন একটি ইতিবাচক অবস্থান তৈরি হয়েছে ঠিক সেই সময়ে দেখা যাচ্ছে একধরণের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নারীর এই অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করার অপচেষ্ট চালোনো হচ্ছে। এর পিছনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সচেতনতার অভাব তীব্রভাবে লক্ষনীয়। যারই ফলাফল হিসেবে আমরা দেখি জানুয়ারি-এপ্রিল ২০১৫ পর্যন্ত ৬৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। মেয়েদের নূন্যতম বিয়ের বয়স ১৬ করার কথা সরকারের কাছ থেকে এসেছে। তিনি বলেন মার্চ ২০১৫ তে যেখানে জানা গেছে যে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ রাখা হবে। কিন্তু কি এমন পরিবর্তন হলো যে অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানেই তা আবার ১৬ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। ১৯২৯ সালে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ করা হয় ২০১৫ সালে এসে সরকার কিভাবে নারীদের বিয়ের বয়স নূন্যতম ১৬ করতে চায়। তিনি বলেন প্রায় ১০০ বছরের পুরানো আইনকে ভেঙ্গে নতুনভাবে তা ১৬ করার অর্থ হচ্ছে নারীকে আবারো পিছনের দিকে ঠেলে দেয়া। আমাদের প্রশ্ন বিভিন্নমুখী নেতিবাচক অভিজ্ঞতা জানা সত্ত্বেও কেন নতুন করে একটি পশ্চাৎমুখী সিদ্ধান্তের কথা ভাবা হচ্ছে যা নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক, চরম নেতিবাচক ক্ষেত্র তৈরি করবে। পাশাপাশি সরকার যদি এই আইন বহাল রাখে তাহলে এদেশের নারী আন্দোলন আরো কঠোর কর্মসূচিতে যাবে।

BMP Movement 4

About Bangladesh Mahila Parishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>