রাজশাহী জেলা সম্মেলন ২০১৫

By on January 31, 2016
BMP Organization 1

১৮ ডিসেম্বর ২০১৫ রাজশাহী জেলা শাখার ৪র্থ সম্মেলন সাধারণ গ্রন্থাগার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি আবেদা রায়হান বুলি। কেন্দ্রিয় প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদেও কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য হাছিনা পারভীন ও রাশেদা খালেক।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মালেকা বানু এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি আবেদা রায়হান বুলি। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। সম্মেলনের ব্যানারসহ একটি র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়।
অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ওয়াকার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবং সংসদ সদস্য আখতার জাহান। আরো উপস্থিত ছিলেন, ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন এবং সমাজ সেবী শাহীন আকতার এ্যানী। উদ্বোধণী পর্ব পরিচালনা করেন জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক সেলিনা বানু।

শোক প্রস্তাব পাঠ করেন কার্যকরী কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কল্পনা রায়। এমপি ফজলে হোসেন বাদশা বলেন প্রয়াত নারী নেত্রী সুফিয়া কামালের সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। তিনি বলেন বাংলাদেশের নারীরা অনেক এগিয়ে গেছে। নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি নারী পুরুষের সমতার পক্ষে কথা বলেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ অনেকাংশে নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে সমর্থ হয়েছে। তিনি সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন।

BMP Organization 2
এরপর বক্তব্য রাখেন মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাগত বক্তব্যে বলেন মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতকালে মহিলা পরিষদের জন্ম হয়েছিল এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করে। মহিলা পরিষদ কোন রাজনৈতিক দলের সংগঠন নয়, নারী পুরুষের সমতায় বিশ্বাসী একটি সংগঠন। সকল ধর্ম, বর্ণের নারীদের একটি সংগঠন। নারী মুক্তি ও নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী হলো নারী। এই অর্ধেক জনগোষ্ঠীর উন্নতি ব্যতীত সমাজের উন্নতি সম্ভব নয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মহিলা পরিষদের একটি অবস্থান ও পরিচিতি আছে। তিনি আরও বলেন নোবেল লরিয়েট অমর্ত্য সেন বলেছেন যে সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে, এতে দেশের অর্ধেক নারী গোষ্ঠীর বিশাল অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ শুধু খাদ্যেই স্বয়ংসম্পূর্নতা অর্জন করেছে তা নয় বর্তমানে খাদ্য বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে, অথচ কৃষিতে নারীশ্রমের স্বীকৃতি নাই। বাংলাদেশ যে মধ্যমআয়ের দেশে পরিনত হয়েছে তার পিছনে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অবদান রয়েছে। আমাদের দেশের নারী বর্তমানে পাহাড়ের চুড়ায় উঠছে, বিমান চালাচ্ছে, রাষ্ট্র পরিচালনাসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমান নারীদের যে অবস্থা ও অবস্থান তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। অথচ নারী পরিবার সমাজ, রাষ্ট্রে যথাযথ মর্যাদা পাচ্ছে না। পরিবারে সমাজে নারী নানাভাবে নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়েই চলেছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় নারীরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছেনা। সংসদে একতৃতীয়াংশ নারী আসন সহ সরাসরি নির্বচনের দাবী জানিয়েছে মহিলা পরিষদ। মহিলা পরিষদের আন্দোলন নারী পুরুষকে বিভেদ করার আন্দোলন নয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানে নারী পুরুষের সমতার কথা বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন সিডো সনদের মূল ধারার বাস্তবায়ন আজও হয়নি। সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর দুইহাত ও পুরুষের দুইহাত মোট ৪ হাতকে কাজে লাগাতে হবে। নারী পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নারী অগ্রগতির লক্ষে সকল বাঁধা দূর করতে হবে। পরিশেষে তিনি নারী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নারী আন্দোলনকে বেগবান করার আহবান জানান।

BMP Organization 3
সংসদ সদস্য আকতার জাহান বলেন, সম্মেলন হলো একটি সংগঠনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে যা সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি মহান ভাষা আন্দোল, ৬৯ এর গনআন্দোলন এবং ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি আরও বলেন বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নের জন্য নানাভাবে কাজ করছে। নারীর স্বাস্থ্য ও নারীর তথ্য অধিকারের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করছে। আল্লামা শফির নেতৃত্বে নারী অগ্রগতির পরিপন্থী ১৩ দফা দাবীকে কঠিনভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। নারী অধিকার সম্পর্কিত অনেক কর্ম পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।
সমাজ সেবী শাহীন আকতার রেনী বলেন সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় পরিবার হোক নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের দুর্গ। প্রতিপাদ্য বিষয়টি খুবই সময়াপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ এজন্য সম্মেলনের প্রতিবাদ্য বিষয়টির সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেন তিনি।

BMP Organization 4
ভাষা সৈনিক আবুল হোসেন বলেন সুফিয়া কামালকে দূর থেকে দেখেছেন। হেনা দাসকে কাছ থেকে দেখেছেন। সর্বোপরী তিনি সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন।
কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য হাছিনা পারভীন বলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সুফিয়া কামাল বলতেন মহিলা পরিষদের এক একটি সদস্য হবে এক একটি মহিলা পরিষদ। বাংলাদেশের মহিলারা পোশাক, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি উপস্থিত সবাইকে সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল এবং একই সাথে সমাজের প্রতিটি নারীকে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত ও সুফিয়া কামালের যোগ্য উত্তরসুরী হওয়ার আহবান জানান।

কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য রাশেদা খালেক বলেন সমাজের সর্বক্ষেত্রে মেয়েরা ছড়িয়ে পড়েছে। মহিলা পরিষদের ঘোষনাপত্র ও গঠনতন্ত্র মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করে। মুক্তিযুদ্ধে দেশের নারীদের অবদানের কথা বিজয়ের মাসে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। মুক্তিযুদ্ধে ৪ লক্ষ নারী শুধু সম্ভমই হারাননি, অনেক নারী অস্ত্র হাতে যুদ্ধও করেছে। দেশ সমৃদ্ধির লক্ষ্যে এগিয়ে গেছে এবং তাতে মহিলাদের অনেক ভূমিকা আছে।

জেলা শাখার সভাপতি আবেদা রায়হান বুলি তিনি সিডো সনদের বাস্তবায়নের দাবী জানিয়ে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষনা করেন। প্রথম অধিবেশন পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জনা সরকার।

কাউন্সিল অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সহসভাপতি লাইলুন নাহার বেগম।

সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পাঠ করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কল্পনা রায়। অর্থ উপ-পরিষদের রিপোর্ট পাঠ করেন অর্থ সম্পাদক সেলিনা বানু। ২০০৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আয় ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরা হয়। সংগঠন উপপরিষদের প্রতিবেদন পাঠ করেন সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জনা সরকার। লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের প্রতিবেদন পাঠ করেন লিগাল এইড সম্পাদক শিখা রায়।

সাধারন সম্পাদকের প্রতিবেদনের উপর আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বড়গাছি ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক রহিমা খাতুন এবং সাগর পাড়া কমিটির সদস্য নূরুননাহার।

পুরাতন কমিটির বিলুপ্ত ঘোষনা করেন জেলা সভাপতি আবেদা রায়হান বুলি। নতুন কমিটির নাম ঘোষনা করেন সহ সভাপতি শাহীন আক্তার, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য হাসিনা পারভীন। নতুন কমিটিকে শপথ পাঠ করেন কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারন সম্পাদক মালেকা বানু। কাউন্সিল অধিবেশন পরিচালনা করেন জেলা শাখার সদস্য লিমা রহমান। কল্পনা রায়কে সভাপতি, অঞ্জনা সরকারকে সাধারন সম্পাদক ও লিমা রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। নওহাটা, দুর্গাপুর ,বড়গাছি, ধরমপুর, আসাম কলোনী, পবা নতুনপাড়া, মুন্সিডাঙ্গা, মিয়াপাড়া, গোদাগাড়ি, কুমারপাড়া, সাগরপাড়া সহ বিভিন্ন শাখা থেকে মোট ৩৩৫ জন সদস্য, কর্মী ও সংগঠক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে।

About mparishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>