সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উদযাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নারী ও কন্যাশিশুর উপর হামলা ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে মানববন্ধন

By on May 27, 2015
BMP Movement 1

গত ১৪ এপ্রিল ২০১৫ নববর্ষ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে নারী ও কন্যাশিশুর উপর হামলা ও যৌন নিপীড় চালানো হয়। তরুণ ছাত্ররা তাদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসলে তারাও আক্রমণের শিকার হন। এই ঘটনার প্রতিবাদে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে ১৬ এপ্রিল ২০১৫ তারিখ বিকাল ৪টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন সমগ্র বাঙ্গালী জাতি যখন একটি উৎসব, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নানা আয়োজনে নববর্ষ উৎসব পালন করছে সেইরকম একটি দিনে উন্মুক্ত স্থানে নারী ও কন্যশিশুর প্রতি সহিংসতার এই ঘটনা দেশে নারীর নিরাপত্তা কতটা হুমকির সম্মুখিন তা আজ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। তারা আরও বলেন যারা নারী উন্নয়ন, নারী-পুরুষের সমতায় বিশ্বাস করে না তারাই সংগঠিত এবং বিচ্ছিনানভাবে নানা কৌশল করে বাংলার আবহমানকালের সার্বজনীন জাতীয় সামাজিক উৎসবে নারীর অংশগ্রহণের অধিকারকে বিভিন্ন সময় বাধাগ্রস্থ করার অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।

পহেলা বৈশাখে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সংগঠিত এই ঘটনাকে ন্যক্কারজনক ও বর্বরোচিত বলে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন এই ঘটনা পুরো জাতিকে স্তম্ভিত করেছে। একই সাথে জননিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়োজিত পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার তারা তিব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন ছাত্র তরুণ সমাজ  এই ঘটনার প্রতিরোধে  উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছে যা আমাদের আশান্বিত করেছে। কাজেই নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের জন্য সমগ্র জাতির বিবেককে জাগ্রত করার পাশাপশি তরুণসমাজকে এরকম ঘটনার প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান বক্তারা।

BMP Movement 2

মানববন্ধনে বক্তারা এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে  নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ ও পুনরাবৃত্তিরোধে প্রশাসনের যথাযথ  দায়িত্বশীল  ভূিমকা পালন  করার দাবি জানানোর পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির দাবীও জানান। এছাড়াও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিরোধে এই ধরনের অনুষ্ঠানে  নিরাপত্তার সকল ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের জন্য মানববন্ধন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও  পুলিশ প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানানো হয় এবং এই বিষয়ে সমাজ, পরিবার, নাগরিকসমাজ ও প্রশাসনকে  যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান করা হয়। পরিশেষে এধরনের ঘটনা নারী ও কন্যাশিশুর স্বাধীন চলাচল ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্থ করতে পারবে না বলে বক্তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

BMP Movement 3

মানবন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. সুলতানা কামাল, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম, নারী অধিকার কর্মী ফৌজিয়া খন্দকার ইভা, স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভলপমেন্টের জীবন কৃষ্ণ সাঁওজাল, আমরাই পারি এর প্রতিনিধি জামিলুর রহমান, বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির অ্যাড.রাশিদা, কর্মজীবী নারীর নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া রফিক বেবী এবং অক্সফামের ফারহানা হাফিজ।

BMP Movement 4

মানবন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির নেত্রীবৃন্দ। মানবন্ধনটি পরিচালনা করেন প্রোগ্রাম ডিরেক্টর অ্যডভোকেসি জনা গোস্বামী।

About mparishad

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>